করোনার আতঙ্ক বিশ্বব্যাপী। যদিও পরিসংখ্যান বলছে ১০০ জনে মাত্র ২ জনের মৃত্যু হয়। মহামারীর সংজ্ঞা অনুসারে এত কম মৃত্যুহারকে মহামারী বলা যায় কি না সে নিয়েও প্রশ্ন তুলছে বিভিন্ন মহল। এই প্রেক্ষিতে পুজোতে ভীড় আটকাতে জনস্বার্থ মামলা করেছিল এক নাগরিক। সেই নাগরিকের হয়ে মামলা লড়েছিলেন বাম নেতা বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য্য।

আদালত সেই মামলায় ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে। সমস্ত ছোট বড় পুজো মন্ডপকে নো এন্ট্রি জোন ঘোষণা করেছে। অভূতপূর্ব এই রায়ে বলা হয়েছে ছোট মন্ডপের ক্ষেত্রে ৫ মিটার এবং বড় মন্ডপের ১০ মিটারের মধ্যে কেউ ঢুকতে পারবে না। প্রত্যেক মন্ডপে ১০ থেকে সর্বাধিক ২৫ জনের তালিকা করতে হবে, তার বাইরে কেউ ঢুকতে পারবেন না। এই তালিকা বদলানোও যাবে না।

কিন্তু আমরা সকলেই জানি, প্রত্যেকটা টেলিভিশন মিডিয়াই পুজোর কভারেজ করবে। কিন্তু প্রশ্ন নো এন্ট্রি জোনে তারা ঢুকবে কিভাবে ?? খবর দেখানোর জন্যে মিডিয়াকে ছাড় দেওয়া হয়। কিন্তু পুজো দেখানো – সেটা কি এখন আর শুধু খবর থাকছে ?? আদালতের রায়ে দর্শকের অসুবিধার সুযোগ নিয়ে টিভিতে অতিরিক্ত বিজ্ঞাপন এবং প্রচুর টাকা নিয়ে তারা কি ব্যবসা করছে না ??



তাদের ব্যবসা করার এই সুযোগ করে দিয়ে সাধারণ হকার, ছোট ব্যবসায়ী যারা এতদিন লকডাউনে কাজহারা হয়ে বসেছিল, যারা এই পুজোর চারদিনের আশায় কিছুটা আলো দেখেছিলেন তাদের রুজী কেড়ে নিয়েছে মামলাকারী নাম না জানা এক নাগরিক। তাদের ইন্ধন জুগিয়েছে এই লোভাতুর কিছু মিডিয়া।

এবার সেই সুযোগ নিয়ে টিভিতে পুজো টেলিকাস্টের নামে অন্যান্য বছরের থেকে বেশী টাকা বিজ্ঞাপন আদায় করার চেষ্টায় এই সংবাদ ব্যবসায়ী মহল। তারা চায়, মানুষ ঘর থেকে কম বার হোক, সারাদিন তাদের টিভি চ্যানেলে মুখ গুঁজে বসে থাকুক। নিজেদের উপার্জন ঠিক মত চালাতে এরা পথের ভিখারির থালাতেও কামড় বসাতে পারে – সেটা আরও একবার প্রমাণিত হল।