বিনিয়োগকারীর সঙ্গে চুক্তি সই না হওয়ায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে ইস্টবেঙ্গলের ভবিষ্যৎ। ক্লাবের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, চূড়ান্ত চুক্তিপত্রে তারা সই করবে না। এর প্রতিক্রিয়ায় বুধবার দুপুরে বিক্ষোভ আছড়ে পড়ে লাল-হলুদ তাঁবুতে। দুই গোষ্ঠীর সমর্থকরা একে অপরের বিরুদ্ধে মারপিটে জড়িয়ে পড়েন।

এসব দেখেই ব্যথিত রাজ্যের বিধায়ক তথা প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী মদন মিত্র। বুধবার ২১ জুলাইয়ের সভার পর ফেসবুক লাইভে এসে জানান, ইস্টবেঙ্গল ক্লাবকে তিনি কোনও মতেই বিক্রি হতে দেবেন না। দরকার হলে বিধায়ক হিসেবে নিজের এক মাসের বেতন দিয়ে দেবেন তিনি। প্রসঙ্গত, একজন বিধায়ক মাসে ৮২ হাজার টাকা বেতন পান।

বুধবার ক্লাব সমর্থকদের ধস্তাধস্তিতে সরগরম হয়ে ওঠে লেসলি ক্লডিয়াস সরণি। ক্লাবকর্তাদের সমর্থক গোষ্ঠীর সঙ্গে কর্তাদের বিরোধী গোষ্ঠীর তুমুল বাদানুবাদ এবং মারপিট বেধে যায়। প্রথমে আবেদন, অনুরোধ করে পুলিশ দু’পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করলেও তাতে কাজ না হওয়ায় লাঠিচার্জ করা হয়। বেশ কিছু বিক্ষোভকারীকের গ্রেফতার করে লালবাজারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এই ঘটনা চলার মাঝেই মদন মিত্র নিজের ফেসবুক পেজে লাইভে এসে বলেন, “একুশে জুলাইয়ের সভা শেষ করে দক্ষিণেশ্বরের অফিসে এলাম। কিন্তু এসেই মন খারাপ হয়ে গেল। প্রায় ২০০০ সমর্থক এসে ভিড় করেছেন অফিসের সামনে। তার মধ্যে পাঁচ-সাতশো মহিলাও রয়েছেন। প্রত্যেকের এক দাবি, ক্লাবকে কোনও কর্পোরেটের হাতে বিক্রি হতে দেব না। আমি একজন সাধারণ বিধায়ক হিসেবে ওঁদের দাবিকে সমর্থন জানাচ্ছি। দরকার পড়লে এক মুহূর্তে ছুটে যেতে পারি ওঁদের কাছে। আমার মন্তব্যের সঙ্গে তৃণমূলের কোনও সম্পর্ক নেই।”

এখানে না থেমে মদন আরও বলেছেন, “ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান, মহমেডান– এই তিন ক্লাব বাংলার একেকটা অঙ্গ। আমাদের শরীরের কিডনি, ফুসফুসের মতোই। আমরা বাংলার ক্লাব বহিরাগতদের হাতে তুলে দেব না। ইস্টবেঙ্গলকে আমরা সবাই মিলে বাঁচাব।”

মদন জানিয়েছেন, তাঁর কাছে এই মুহূর্তে ক্ষমতা নেই ক্লাবকে নতুন স্পনসর জোগাড় করে দেওয়ার। তবে তিনি নিজের সাধ্যমতো যে ভাবে পারবেন, সাহায্য করবেন। এর পরেই তিনি বলেন, “আমি আমার এক মাসের বেতন ইস্টবেঙ্গলকে দিয়ে দিতে রাজি।”