সুড়ঙ্গে আটকে পড়েছে ট্রেন। ট্রেনের মধ্যে থাকা যাত্রীদের বুক সমান জল। বাঁচার জন্য সিটের উপরে দাঁড়িয়ে রয়েছেন যাত্রীরা। উদ্ধার কাজে হাতে লাগিয়েছে সেনাবাহিনী। এমনই একটি দৃশ্য দেখা গেল চিনের একটি ভিডিয়োতে। সংবাদসংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, চিনের বন্যা পরিস্থিতির জন্য একটি ট্রেন সুড়ঙ্গে আটকে পড়ে। কোথাও কাঁধ, কোথাও বুক সমান জল যাত্রীদের। উদ্ধার কার্যে নেমেছে সে দেশের সেনা। ওই ঘটনায় ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর।

সোমবার থেকে দু’দিনের টানা বৃষ্টিতে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে চিনের হেনান প্রদেশে। সেখানকার কমপক্ষে ২২টি শহর জলমগ্ন হয়েছে। সুড়ঙ্গে ট্রেন আটকে পড়ার ঘটনাটি ঘটেছে ঝেংঝউ শহরে। ওই শহরের একটি সুড়ঙ্গে প্রবেশের পর জলের মধ্যে আটকে পড়ে ট্রেনটি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, চালক সম্ভবত জলের পরিমাণ আন্দাজ করতে না পেরেই সাবওয়ের মধ্য দিয়ে ট্রেনটি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।

কিন্তু সুড়ঙ্গের টানেলে জলের পরিমাণ বেশি থাকায় তা সম্ভব হয়নি। প্রায় ৭০০ জন যাত্রী নিয়ে আটকে পড়ে ট্রেনটি। যাত্রীরা ফোন, নেটমাধ্যমে সাহায্যের জন্য বার্তা পৌঁছে দেন প্রশাসনের কাছে। পরে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও সেনা উদ্ধার কাজে নামে। আটকে থাকা যাত্রীদের খাবার, পানীয় জল পৌঁছে দেয় তারা। প্রায় ৪০ ঘন্টা আটকে থাকার পর সুড়ঙ্গ থেকে যাত্রীদের বার করে আনা সম্ভব হয়েছে।

হেনান প্রদেশে প্রায় ১০ কোটি মানুষের বসবাস। আবহাওয়া দফতর আগেই সেখানে ঝড়-বৃষ্টির নিয়ে সতর্কতা জারি করেছিল। সোম ও মঙ্গলবার দু’দিন ব্যাপক বৃষ্টি হয় ওই প্রদেশে। নদীর জলস্তর বিপদসীমার উপর দিয়ে বইতে শুরু করে। ফুলে ফেঁপে ওঠে জলাধারগুলিও। কিছু জায়গায় নদীর বাঁধ মেরামতের কাজে লেগেছে সেনাবাহিনী। বন্যার কবলে পড়েছে ২০টিরও বেশি শহর। বেশির ভাগ রাস্তায় মানুষ সমান জল জমেছে। জলের তলায় তলিয়ে গিয়েছে স্টেশনগুলিও। প্রবল বৃষ্টির দরুণ হেনানের অনেক জায়গায় বিমান ও ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, গত ১০০ বছরে এই ধরনের ঘটনা এই প্রথম ঘটল। দেশের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চিনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং।